1. [email protected] : admin :
দুই দশক পর ইরাক ছাড়ছে মার্কিন সেনারা,কী হবে এরপর? - সত্য ও ন্যায়ের কথা বলে
শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ১০:০৬ পূর্বাহ্ন

দুই দশক পর ইরাক ছাড়ছে মার্কিন সেনারা,কী হবে এরপর?

Reporter Name
  • Update Time : মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • ১৫ Time View

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ

দীর্ঘ দুই দশকের রক্তক্ষয়ী সংঘাত ও সাড়ে চার হাজারের বেশি মার্কিন সেনার মৃত্যুর স্মৃতি পেছনে ফেলে অবশেষে ইরাক থেকে সামরিক উপস্থিতি গুটিয়ে নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। বুধবারের মধ্যে দেশটিতে থাকা অবশিষ্ট মার্কিন ঘাঁটিগুলোর কার্যক্রম বন্ধ করে সেনা প্রত্যাহারের প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।

 

২০২৪ সালে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের প্রশাসনের নেওয়া সিদ্ধান্তই বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন বাস্তবায়ন করছে। যুক্তরাষ্ট্রের এই বিদায়কে বড় ধরনের কৌশলগত সাফল্য হিসেবে দেখছে ইরান ও দেশটির সমর্থিত সশস্ত্র শিয়া গোষ্ঠীগুলো।

ইরাকি ইসলামিক রেজিস্ট্যান্সের শীর্ষ কমান্ডার আবু মুজতবা আল-ইয়াসিরি মার্কিন বাহিনীর প্রস্থানকে ‘যুক্তরাষ্ট্রের নগ্ন সাম্রাজ্যবাদী চক্রান্তের শোচনীয় পরাজয় এবং স্বাধীনতাকামী ইরাকিদের ঐতিহাসিক জয়’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। শিয়া প্রতিরোধ দলগুলো আগামী ৩০ সেপ্টেম্বরকে ইরাকের ইতিহাস থেকে একটি ‘কালো অধ্যায়’ মুছে ফেলার দিন হিসেবে উদযাপনের ঘোষণা দিয়েছে।

ইরানের পার্লামেন্টের জাতীয় নিরাপত্তা কমিটির সহসভাপতি আমির হায়াত মুকাদ্দামও মার্কিন সেনা প্রত্যাহারকে স্বাগত জানিয়েছেন। তার দাবি, আমেরিকানদের বিতাড়নের মাধ্যমেই পুরো অঞ্চলে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার পথ তৈরি হবে।

তবে মার্কিন সেনাদের বিদায়ে ইরানের সমর্থক গোষ্ঠীগুলো সন্তুষ্ট হলেও ইরাকের অনেক সাধারণ মানুষ ও সুন্নি উপজাতি নেতা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। ফালুজার সুন্নি নেতা আব্দুলরহমান আল-জুবাই সতর্ক করে বলেছেন, দেশের পুরো নিরাপত্তা ব্যবস্থা সামাল দেওয়ার মতো সক্ষমতা ইরাকি বাহিনীর এখনো তৈরি হয়নি। তার আশঙ্কা, মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের ফলে সৃষ্ট নিরাপত্তা শূন্যতা ইরাককে আবারও বিশৃঙ্খলা ও ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিতে পারে।

২০০৩ সালে মার্কিন আগ্রাসনে সাদ্দাম হোসেনের পতনের পর থেকেই ইরাক ওয়াশিংটন ও তেহরানের দীর্ঘস্থায়ী ছায়াযুদ্ধের অন্যতম প্রধান ক্ষেত্র হয়ে ওঠে। এখন মার্কিন বাহিনী সরে যাওয়ায় দেশটির নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা ব্যবস্থায় তৈরি হওয়া শূন্যতার সুযোগ নিতে পারে জঙ্গিগোষ্ঠী ইসলামিক স্টেট বা আইএস।

কুর্দি সামরিক কমান্ডার সিরওয়ান বারজানি ও ইরাকি নিরাপত্তা কর্মকর্তারাও এ বিষয়ে সতর্ক করেছেন। তাদের দাবি, মার্কিন ড্রোন ও গোয়েন্দা নজরদারি কমে যাওয়ার সুযোগে আইএসের সুপ্ত সেলগুলো আবার সক্রিয় হতে পারে।

কিরকুকের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা কর্নেল খালিদ আল-বায়াতী জানিয়েছেন, মার্কিন সেনাদের বিদায়ের সময় নিজেদের সক্ষমতা জানান দিতে আত্মঘাতী হামলার পরিকল্পনা করতে পারে জঙ্গিরা।

ফলে একদিকে ইরানের রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা প্রভাব বাড়ার সম্ভাবনা, অন্যদিকে আইএসের সম্ভাব্য পুনরুত্থানের আশঙ্কা সব মিলিয়ে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের এই সন্ধিক্ষণে নতুন অনিশ্চয়তার মুখে দাঁড়িয়ে আছে ইরাক।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও সংবাদ পড়ুন

স্বর্বস্বত্ব সংরক্ষিত-২০২৩-২০২৬,স্মার্ট টিভি,র ওয়েবসাইটের লেখা,ছবি,ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা দন্ডনীয় অপরাধ।

Developer By Zorex Zira