1. [email protected] : admin :
আজ দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় বাজেট পাশ - সত্য ও ন্যায়ের কথা বলে
শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ০৭:২৬ অপরাহ্ন

আজ দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় বাজেট পাশ

Reporter Name
  • Update Time : বৃহস্পতিবার, ৬ জুন, ২০২৪
  • ২২১ Time View

বিশেষ প্রতিনিধিঃ

সময়ের বাঁকে বাঁকে সংকট সামনে এসেছে বারবার; সেসব পাশ কাটিয়ে অর্থনীতিকে জাগিয়ে তোলার চেষ্টাও ধাক্কা খেয়েছে। সেই বাস্তবতা মেনেই প্রবৃদ্ধির উচ্চাশা কমিয়ে এনে, খরচের হাত সংযত রেখে অর্থনীতিকে টেনে তোলার ছক থাকছে আগামী বাজেটে।

চর্তুমুখী চাপের মধ্যেও স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণের অঙ্গীকার সরকার ধরে রেখেছে। তবে বৈশ্ব্কি ও অভ্যন্তরীণ বাস্তবতা সরকারের আয়-ব্যয়ের উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনাকে চুপসে দিচ্ছে। যে কারণে বাজেট ঘাটতি এক দশক পর আবার জিডিপির ৫ শতাংশের নিচে নামছে; ৪ দশমিক ৬ শতাংশের মধ্যে যা সীমাবদ্ধ রাখার আভাস মিলেছে।

বছর কয়েক ধরে বাজেটের আকার ১২ থেকে ১৪ শতাংশ পর্যন্ত ফুলে ফেঁপে ওঠার প্রবণতাতে এবার রাশ টানা হচ্ছে বলেই ঘাটতি কম ধরা হচ্ছে।

বিদায়ী অর্থবছরের মূল বাজেটের চেয়ে ব্যয় বেশি ধরা হচ্ছে মাত্র ৪ দশমিক ৭৩ শতাংশ, এতে আকার দাঁড়াচ্ছে মোটামুটি ৭ লাখ ৯৭ হাজার কোটি টাকা (জিডিপির ১৫ দশমিক ৭৪ শতাংশ)। অথচ এক বছর আগেই চলতি ২০২৩-২৪ অর্থবছরের বাজেটের আকার আগেরটির চেয়ে বাড়ানো হয়েছিল ১২ দশমিক ৩৪ শতাংশ।

আঁটসাঁট আকারের কারণে ঘাটতির লক্ষ্যমাত্রাও আগেরবারের চেয়ে কমে হচ্ছে ২ লাখ ৫৬ হাজার কোটি টাকা। বিদায়ী অর্থবছরে বাজেট ঘাটতি জিডিপির ৫ দশমিক ২ শতাংশ ধরা হলেও এবার তা ৪ দশমিক ৬ শতাংশ। ২০১৩-১৪ অর্থবছরের পর থেকে ঘাটতি সবসময়ই ৪ দশমিক ৯ শতাংশের বেশি ছিল।

এমন সংযত থাকার মধ্যেও উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া লাগামহীন মূল্যস্ফীতিকে বশ মানানোই হবে নতুন অর্থমন্ত্রীর আসল চ্যালেঞ্জ। কেননা সংকোচনমূলক নীতি মেনে চলার পরও দুই বছর ধরে ভোগাচ্ছে মূল্যস্ফীতি। সামর্থ্য আর বাস্তবতার বিপরীত অবস্থানে অর্থনীতি গতিতে ফিরতে পারছে না।

তবুও দুই অঙ্ক ছুঁইছুঁই মূল্যস্ফীতি আগামী অর্থবছর শেষে সাড়ে ৬ শতাংশে নামিয়ে আনার কঠিন লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করার সাহস দেখাতে চলেছেন অর্থনীতির ছাত্র আবুল হাসান মাহমুদ আলী।

আর বছরের পর বছর উচ্চহারের প্রবৃদ্ধি ধরার রীতি ভেঙে সেই লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করেছেন ৬ দশমিক ৭৫ শতাংশ বলে খবরে এসেছে।

অর্থনীতির ক্ষত সারাতেখরচের খাতার হিসাব নিকাশে সংযত হলেও নিজেদের আয় বাড়াতে গিয়ে করের হাত সম্প্রসারণ করতে চান অর্থমন্ত্রী। যে কারণে অনেক খাতেই কর ও ভ্যাটের বোঝা বাড়ার দুসংবাদ আসতে পারে বলে ইঙ্গিত মিলেছে। তা ‘স্মার্ট বাংলাদেশের’ দিকে এগোনোর পথে মূল্যস্ফীতির চাপে হাবুডুবু খাওয়ানাগরিকদের খুব ‘সুখী’ করবে বলে মনে হয় না।

ভোক্তাদেরখারাপ সময়েও এমনপদক্ষেপের পেছনের কারণ রাজস্ব খাতে আইএমএফের সংস্কার বাস্তবায়ন; যারঅংশ হিসেবে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড-এনবিআর ঢালাও করছাড়ের যুগ পেরিয়ে আসতে চাইছে। কর অব্যাহতি তুলে নিয়ে নিজেদের উন্নয়নশীল দেশের কাতারে যাওয়ার সক্ষম করে তোলার প্রস্তুতির সূচনা করছে।

তবে মূলস্ফীতিরএ সময়ে ডলার সংকট, অনিয়মের অসুখে পড়া ব্যাংক খাত, বিনিয়োগে স্থবিরতা, বিশাল ঘাটতি মেটাতে ব্যাংক ঋণের বদলে রাজস্ব আয় বাড়ানোর চাপ কীভাবে সামাল দেবেন অর্থমন্ত্রী তা দেখার বিষয়।

এতসব সমস্যার মধ্যে ভুর্তকিসহঅন্যসব খাতেআইএমএফের সংস্কারমূলক পরামর্শ বাস্তবায়ন করতে গিয়ে বাস্তবতা হয়ে যাচ্ছে আরও কঠিন।

অর্থনীতির এসব জট খুলতে এবারমুন্সিয়ানা দেখাতেহবে মুহিত যুগ পেরিয়ে ‍মুস্তাফা কামালের অধ্যায় শেষে দায়িত্বে আসা মাহমুদ আলীকে।

৮১ বছর বয়সী নতুন অর্থমন্ত্রীও এসব চ্যালেঞ্জ দেখতে পাচ্ছেন। এগুলো মোকাবেলা করেই সামনে এগোতে চান তিনি।

সাংবাদিকদের সঙ্গে সম্প্রতি বাজেট নিয়ে আলাপকালে তিনি বলেন, চ্যালেঞ্জ তো আছেই। মূল্যস্ফীতি আছে, রিজার্ভ, রাজস্ব আয়, ডলারের মূল্য, এরকম আরও অনেক। এখন ঋণ খেলাপিদের ধরতে হবে। আমি তো ধরতে চাই।

এসব ভাবনা মাথায় রেখে অর্থমন্ত্রীকে আগামী ২০২৪-২৫ অর্থবছরের বাজেটে সাধারণের প্রত্যাশার চাপ মেটাতে আর আইএমএফের সংস্কার এগিয়ে নেওয়ার কৌশল ঠিক করতে হয়েছে।

এর সব কিছুই স্পষ্ট হবে বৃহস্পতিবার বিকাল ৩টায় জাতীয় সংসদে তার ব্রিফকেস থেকে বাজেট বই খোলার মধ্য দিয়ে।

’সুখী, সমৃদ্ধ, উন্নত ও স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণের অঙ্গীকার’ শিরোনামে যে বাজেট আসছে তার কিছু আভাসও এরই মধ্যে মিলেছে। বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় সংকোচনমূলক নীতি অনুসরণকে সঠিক পন্থা বলে মনে করছেন অর্থমন্ত্রী।

মোটামুটি ৭ লাখ ৯৭ হাজার কোটি টাকার বাজেটের যেসব তথ্য উপাত্ত খবরে এসেছে তাতে প্রথাগত ছকের মধ্যেই তিনি থাকছেন বলে মনে হচ্ছে। তবে পূর্বসূরীদের মত প্রবৃদ্ধির উচ্চাভিলাষে গা ভাসাচ্ছেন না। সে উপায়ও তার নেই।

কারণ, চলতি অর্থবছরের ৭ লাখ ৬১ হাজার ৭৮৫ কোটি টাকার বাজেটও শেষ পর্যন্ত অনেকটা কাটছাঁট করতে হচ্ছে।

অর্থবছরের মাঝপথে গত জানুয়ারিতে অর্থ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে আসা মাহমুদ আলীকে সেটি সংশোধন করে ৭ লাখ ১৪ হাজার কোটিতে নামিয়ে আনতে হয়েছে। যেজন্য নতুন বাজেট করতে গিয়ে আকারে তা অনেক বাড়ানোর পথে তিনি হাঁটেননি।

বড় ধরনের নীতি পরিবর্তনের কয়েকটি সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন শুরু হওয়ায় চাপে থাকা অর্থনীতিতে আরেকটু চাপ বাড়ছে বলে মনে করে বিশ্ব ব্যাংকের সাবেক লিড ইকোনোমিস্ট জাহিদ হোসেন।

তিনি বলেন, অর্থনীতি যে ঘুড়ে দাঁড়ানোর কথা ছিল তা এখনও দেখা যাচ্ছে না। সুদহার তুলে দিয়ে সার্কুলার দিচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক। আবার ব্যবসায়ীদের গভর্নর বলেছেন, ১৪ শতাংশের মধ্যে সুদহার থাকবে। তাহলে তো দুই ধরনের বার্তা গেল অর্থনীতিতে।

কাগজে কলমে নীতি থাকার পরও তাতে বিশ্বাস করা যাচ্ছে না। তাহলে ব্যবসায়িক সুরক্ষাটা কোথায় থাকলে-থাকল না। ব্যবসায়ীদের ঝুঁকি নেওয়ার সক্ষমতা থাকল না। এভাবে নীতি বিরোধী বক্তব্য দিলে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ সম্ভব হবে না।

এক বছরেরও বেশি সময় ধরে দেশে মূল্যস্ফীতি ১০ শতাংশের কাছাকাছি। এ কারণে স্বল্প আয়ের মানুষের জীবন হয়ে গেছে কঠিন।

এক বছরেরও বেশি সময় ধরে দেশে মূল্যস্ফীতি ১০ শতাংশের কাছাকাছি। এ কারণে স্বল্প আয়ের মানুষের জীবন হয়ে গেছে কঠিন।

>> মূল্যস্ফীতি দুই অঙ্কের ঘরে রয়েছে গত দুই বছর ধরে।

>> গত বছরের অগাস্টে তা সর্বোচ্চ ৯ দশমিক ৯৪ শতাংশ উঠেছিল।

>> সবশেষ হালনাগাদ তথ্যে মে মাস শেষে তা আবার বেড়ে৯ দশমিক ৮৯ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।

উচ্চ মূল্যস্ফীতির এমন পরিস্থিতিতে তা নিয়ন্ত্রণে বাজার তদারকিতে মন্ত্রণালয়গুলোকে কার্যকর করার পরামর্শ দিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ করতে পণ্য সরবরাহ বাড়াতে হবে। এটি যদি না হয়, তাহলে যতোই বলা হোক মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে আসবে, তা হবে না।

তিনি বলেন, দোকানে তো পণ্য আছে। এর মানে সরবরাহের দিকটায় খুব সমস্যা নেই, কিন্তু দাম বাড়ছে। ভোক্তা অধিকার দিয়ে বাজার তদারকিতে সাফল্য আসবে না। খাদ্য ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়কে নামতে হবে।

আমদানিতে ভোগ্যপণ্যের শুল্ক কমিয়ে আনলে দাম সহনীয় হবে মন্তব্য করে সালেহউদ্দিন বলেন, পোল্ট্রি ও প্রাণিসম্পদ তেমন কোনো প্রণোদনা পায় না। কৃষি খাত হিসেবে তাদের প্রণোদনা বাড়াতে হবে। এজন্য আইএমএফের কথায় সারে ও কৃষি খাতে ভর্তুকি কমানো যাবে না, এখানে যৌক্তিক হারে দিতে হবে।

তিন সূচকে স্বস্তি

>> চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে এপ্রিল-১০ মাসে রপ্তানি আয় বেড়েছে ৩ দশমিক ৯৩ শতাংশ, আয় এসেছে ৪৭ দশমিক ৪৭ বিলিয়ন ডলার।

>> আগের অর্থবছরের এ সময়ে যা ছিল ৪৫ দশমিক ৬৭ বিলিয়ন ডলার।

>> জুলাই-এপ্রিল সময়ে রেমিটেন্সে প্রবৃদ্ধি ৭ দশমিক ৮৯ শতাংশ, এসেছে ১৯ দশমিক ১১ বিলিয়ন ডলার।

>> আগের অর্থবছরের এ সময়ে এসেছিল ১৭ দশমিক ৭১ বিলিয়ন ডলার।

>> এ সময়ে রাজস্ব আহরণ ১৫ দশমিক ৬১ শতাংশ বেড়ে হয়েছে ২ লাখ ৮৯ হাজার ৩৭৭ কোটি টাকা; গত অর্থবছরের একই সময়ে যা ছিল দুই লাখ ৫০ হাজার ২৯৪ কোটি টাকা।

অর্থনীতিবিদ জাহিদ হোসেন বলেন, অর্থনীতির রেমিটেন্স, রপ্তানি ও রাজস্ব আদায় সূচক কিছুটা স্বস্তিতে আছে। অন্য কোনো সূচকে ভালো অবস্থানে নেই। তবে রেমিটেন্স প্রবাহ আরও বাড়ানো যেত। এজন্য সরকারের রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত লাগবে।

সালেহউদ্দিন আহমেদের পরামর্শ বৈধ পথে কেন রেমিটেন্স আসছে তা জরুরিভিত্তিতে সরকারকে দেখতে হবে। এটা দেশ থেকে টাকা পাচারের মাধ্যম হয়ে যাচ্ছে।

রাজস্ব আদায়ে এনবিআরের সক্ষমতা বাড়ানোর পরামর্শ দিয়ে সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগের (সিপিডি) নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুন বলেন, কর-জিডিপি অনুপাত আমাদের এখনো ৭ দশমিক ৬ শতাংশের ঘরে। কর ছাড় ও কর সুবিধা দেওয়া বন্ধ করতে হবে। কিছু খাতে কর ছাড় যৌক্তিক পর্যায় নামিয়ে আনতে হবে।

কর ফাঁকিবাজদের ধরার তাগাদা দিয়ে তিনি বলেন, এনবিআরের বর্তমান কাঠামোতে শুধু লক্ষ্যমাত্রা দিলে হবে না। তাদের সক্ষমতা বাড়াতে হবে।

কর-জিডিপি অনুপাত বাড়াতে হয়রানিমুক্ত পরিবেশ ও প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়িয়ে এনবিআরকে আরও শক্তিশালী করার পরামর্শ তার।

বাণিজ্য ঘাটতি কমেছে, ঋণ শোধের চাপ আর্থিক হিসাবে

>> জুলাই-মার্চে আমদানি হয়েছে ৪২ দশমিক ২১ বিলিয়ন ডলার, কমেছে ১৫ দশমিক ৪২ শতাংশ।

>> আগের অর্থবছরের এ সময়ে তা ছিল ৫৮ দশমিক ২৭ বিলিয়ন ডলার।

গত দুই বছর ধরে আমদানি নিয়ন্ত্রণ নীতির কারণে বাণিজ্য ঘাটতি ধীরে ধীরে কমছে।

>> জুলাই-মার্চে বাণিজ্য ঘাটতি হয়েছে ৪ দশমিক ৭৪ বিলিয়ন ডলার। এক বছরের ব্যবধানে কমেছে ৯ দশমিক ৮৮ বিলিয়ন ডলার বা ৬৭ দশমিক ৫৭ শতাংশ।

>> আগের অর্থবছরের এ সময়ে যা ছিল ১৪ দশমিক ৬৩ বিলিয়ন ডলার।

এর সঙ্গে রেমিটেন্সে প্রবাহ ইতিবাচক হওয়ায় ঋণাত্বক থেকে এ অর্থবছরে ইতিবাচক ধারায় ফিরেছে আন্তর্জাতিক লেনদেনের চলতি হিসাব।

>> জুলাই-মার্চে চলতি হিসাবে উদ্বৃত্ত ৫ দশমিক ৭৯ বিলিয়ন ডলার।

>> আগের অর্থবছরের এ সময়ে ঘাটতি ছিল তিন দশমিক ২৯ বিলিয়ন ডলার।

তবে ঋণ পরিশোধের পরিমাণ বেড়ে যাওয়ায় আর্থিক হিসাবের ঘাটতি বেড়েছে আগের চেয়ে।

>> জুলাই-মার্চে এ হিসাবে ঘাটতি ৯ দশমিক ২৫ বিলিয়ন ডলার, যা আগের অর্থবছরের এ সময়ের চেয়ে ৬ দশমিক ৩৩ বিলিয়ন ডলার বা ২১৬ দশমিক ১৮ শতাংশ বেশি।

এমন প্রেক্ষাপটে বিদেশি ঋণ যথাসম্ভব কমিয়ে আনার পরামর্শ দিয়ে সিপিডির ফাহমিদা খাতুন বলেন, সামনের দিনে বৈদেশিক দায় পরিশোধের বড় চাপ আসছে। আর্থিক হিসাব এখনও ঘাটতিতে থাকায় বিদেশি ঋণ নেওয়ার প্রবণতা কমাতে হবে। নইলে টাকার মানের উপর আরও চাপ বাড়বে।

সুখবর নেই বিদেশি বিনিয়োগেও

>> গত ৯ মাসে মোট এফডিআই (সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ) ছিল ৩ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলার।

>> আগের অর্থবছরের এ সময়ে যা ছিল ৩ দশমিক ৩৭ বিলিয়ন ডলার, শতকরা হারে কমেছে ৪ দশমিক ৯২ শতাংশ।

বেশি বিনিয়োগ যখন দরকার তখন তা কমে যাওয়ার জন্য অর্থনীতির নীতি নির্ধারণী সিদ্ধান্তে দ্রুত পরিবর্তন ও জ্বালানি সমস্যাকে দায়ী করেছেন সালেহউদ্দিন আহমেদ।

তিনি বলেন, প্রতিযোগী দেশ ভিয়েতনাম বছরে ৭-৮ বিলিয়ন ডলার পায়। ভারতেও গত বছরে বিদেশি বিনিয়োগ এখন লাখ কোটি ডলার ছাড়িয়ে গিয়েছে।

বাংলাদেশ কেন পায় না সে প্রশ্ন রেখে তিনি বলেন, শুধু বললে তো হবে না, বিনিয়োগ পরিবেশ ভালো হতে হবে। তারা জ্বালানি ও পরিবেশের নিশ্চয়তা চাইবে।

সুদহার ও ডলার নিয়ে ঘনঘন নীতি বদলালে তারা তো কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারবে না। এতে দেশের ক্রেডিট রেটিংস পড়ে যায়। তারা তো ক্রেডিট রেটিংস দেখবে, অর্থ নিয়ে যেতে পারবে কি, না তা দেখবে। এসব জায়গায় উন্নতি করতে হবে।

ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই সভাপতি মাহবুবুল আলম বলেন, গত দুই বছর ধরে তো দুটি যুদ্ধ চলছে বিশ্বে, ইউক্রেন-রাশিয়ার পরে ফিলিস্তিন-ইসরায়েলের। রিজার্ভ একটু সংকটে থাকায় আমদানি তো ব্যবসায়ীরা যা চাচ্ছে তা করতে পারছে না। নতুন বিনিয়োগ চাইলেও বেশির ভাগ করতে পারেনি।

কারখানার বর্তমান সক্ষমতাই ব্যবহার করা যাচ্ছে না, সেখানে নতুন বিনিয়োগ তো হবে না। আমরা আশা করছি সমস্যা কেটে যাবে। বিদেশি বিনিয়োগ বাড়বে, তারাও খোঁজখবর রাখছে। রিজার্ভ একটু বাড়লে তখন সবই হবে। রিজার্ভ বাড়াতে ব্যাংকিং চ্যানেলে রেমিটেন্স আরও আনতে হবে। রপ্তানি বৈচিত্রমুখী করার চেষ্টা করা হচ্ছে, এখানেও ভালো কিছু হবে।

বাড়ছে বিদেশি ঋণ, সুদ পরিশোধ

>> গত ডিসেম্বর শেষে বিদেশি ঋণের পরিমাণ বেড়ে হয়েছে ১০০ দশমিক ৬৩ বিলিয়ন ডলার। পরের চার মাসে তা আরও বেড়েছে।

>> মার্চ পর্যন্ত ৯ মাসে ১ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার পরিশোধ।

>> এক বছরের ব্যবধানে বেড়েছে ২৫ কোটি ৩০ লাখ ডলার বা ২০ দশমিক ১৪ শতাংশ।

>> ২০২২-২৩ অর্থবছরের এ সময়ে পরিশোধ ১ দশমিক ২৫ বিলিয়ন ডলার।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও সংবাদ পড়ুন

স্বর্বস্বত্ব সংরক্ষিত-২০২৩-২০২৬,স্মার্ট টিভি,র ওয়েবসাইটের লেখা,ছবি,ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা দন্ডনীয় অপরাধ।

Developer By Zorex Zira