আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ
ইরানের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধ বন্ধে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ওপর চাপ সৃষ্টির কৌশল হিসেবে সরকারের অর্থায়নের নিয়ন্ত্রণ ব্যবহারের ইঙ্গিত দিয়েছেন সিনেটে ডেমোক্র্যাটদের শীর্ষ নেতা চাক শুমার। তাঁর মতে, কংগ্রেসে আসন্ন সংখ্যাগরিষ্ঠতার সুযোগ কাজে লাগিয়ে যুদ্ধ বন্ধে প্রশাসনকে চাপে ফেলতে পারে তাঁর দল।
শুমার বলেন, ‘(ইরানের বিরুদ্ধে) এই যুদ্ধ অবশ্যই অবসান ঘটাতে হবে’। তাঁর ভাষ্য, সরকারের অর্থায়নের ওপর নিয়ন্ত্রণ বা ‘অর্থের ক্ষমতা’ প্রয়োগ করে মার্কিন জনগণের সম্মতি ছাড়া কোনো প্রেসিডেন্টকে যুদ্ধ চালিয়ে যেতে নিরুৎসাহিত করা সম্ভব।
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফল স্পষ্ট হওয়ার পর স্থানীয় সময় বুধবার (০৪ নভেম্বর) সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় এসব মন্তব্য করেন চাক শুমার। তিনি বলেন, ‘এই যুদ্ধ অবশ্যই শেষ হতে হবে। এটি শেষ হতেই হবে’।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যৌথ হামলা শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। এরপর দুই পক্ষের মধ্যে একাধিকবার প্রাণঘাতী ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনা ঘটে। সংঘাতের প্রভাবে হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল পরিবহন ব্যাহত হয় এবং জ্বালানির দাম বেড়ে যায়।
ডেমোক্র্যাটদের অভিযোগ, কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়াই ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান অনুযায়ী, যুদ্ধ ঘোষণার ক্ষমতা কংগ্রেসের হাতে। এ যুক্তি দেখিয়ে ডেমোক্র্যাটরা বলছেন, ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান চালাতে কংগ্রেসের অনুমতি নেওয়া প্রয়োজন ছিল।
চলতি বছরের জুন ও জুলাইয়ে প্রতিনিধি পরিষদে যুদ্ধ পরিচালনার ক্ষমতা নিয়ে প্রস্তাব পাস হয়। সিনেটে অবশ্য দশম প্রচেষ্টায় প্রস্তাবটি অনুমোদন পায়। তবে পরদিনই রিপাবলিকান সিনেটররা তাঁদের অবস্থান পরিবর্তন করেন। এর আগের দিন রুদ্ধদ্বার মধ্যাহ্নভোজে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তাঁদের সমালোচনা করেছিলেন।
এরপর সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি প্রতিনিধি পরিষদে তৃতীয়বারের মতো একই ধরনের প্রস্তাব পাস হয়। এতে পক্ষে ভোট পড়ে ২২০টি এবং বিপক্ষে ২০৪টি। ওই সময় সাতজন রিপাবলিকান সদস্য ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে যোগ দেন। তখন প্রকাশিত হিসাব অনুযায়ী, ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ১৯ জন সেনাসদস্য নিহত এবং ৭৫০ জনের বেশি আহত হয়েছিলেন।
কংগ্রেসনাল বাজেট অফিসের তথ্য অনুযায়ী, ১ আগস্ট পর্যন্ত ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয় ৩ হাজার ৮০০ কোটি ডলার ছাড়িয়ে যায়। সংস্থাটির পূর্বাভাস ছিল, ২০২৭ সালের দিকে এ সংঘাতের প্রভাবে মূল্যস্ফীতি শূন্য দশমিক ৫ শতাংশীয় পয়েন্ট বেড়ে যেতে পারে।
এদিকে গত জুলাইয়ে প্রকাশিত একটি জনমত জরিপে দেখা যায়, ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার মতো যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এটি নয় বলে মনে করেন অধিকাংশ মার্কিন নাগরিক।
যুদ্ধক্ষমতা-সংক্রান্ত প্রস্তাবগুলো শেষ পর্যন্ত কার্যকর করা সম্ভব হয়নি। এর অন্যতম কারণ, এসব প্রস্তাবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ভেটো দিতে পারেন। তবে মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর কংগ্রেসের দুই কক্ষের নিয়ন্ত্রণ ডেমোক্র্যাটদের হাতে যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হওয়ায় নতুন কৌশল নিয়ে ভাবছে দলটি। সরকারের অর্থায়ন নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা কাজে লাগিয়ে ইরান যুদ্ধের বিরোধিতা এবং তা বন্ধে ট্রাম্প প্রশাসনের ওপর চাপ বাড়ানোর সুযোগ পেতে পারে তারা।
স্বর্বস্বত্ব সংরক্ষিত-২০২৩-২০২৬,স্মার্ট টিভি,র ওয়েবসাইটের লেখা,ছবি,ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা দন্ডনীয় অপরাধ।
Leave a Reply