1. [email protected] : admin :
একজন প্রকৃত প্রশাসক এর  জীবন দর্শন - সত্য ও ন্যায়ের কথা বলে
শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ০৯:৩৭ অপরাহ্ন

একজন প্রকৃত প্রশাসক এর  জীবন দর্শন

Reporter Name
  • Update Time : শুক্রবার, ২৯ আগস্ট, ২০২৫
  • ২১৭ Time View
শাহিন নুরী,গাইবান্ধাঃ
প্রত্যেক সরকারী চাকুরীজীবীগণ জনগনের সেবক আর জনগণের সেবা করাই তাদের প্রধান লক্ষ্য ও কাজ।  জনগণের সেবক হিসাবেই তাদেরকে সরকারি চাকরিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। জনগণের ট্যাক্সের টাকাই তাদের বেতন হয়।  বাঙালি কবি কুসুমকুমারী বলেছেন “আমাদের দেশে সেই ছেলে কবে হবে, কথায় না বড় হয়ে কাজে বড় হবে” । গণতন্ত্রের মূলমন্ত্র হচ্ছে জনগণ সকল ক্ষমতার উৎস। বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক দেশ দীর্ঘ লড়াই ও সংগ্রামের মধ্য দিয়ে ১৯৭১ সালে ১৬ই ডিসেম্বর পূর্ব পাকিস্তান  নামক একটি রাজ্য পশ্চিম পাকিস্তানের শোষণ ও বঞ্চনা থেকে মুক্ত হয়ে বিশ্বের মানচিত্রে মাথা উঁচু করে  স্বাধীন ভাবে জায়গা করে নেয়। বাংলাদেশ নামক একটি স্বাধীন রাষ্ট যার নাম বাংলাদেশ । মানুষের যখন পিঠ দেয়ালে ঠেকে যায়  তখন মানুষ সামনের দিকে অগ্রসর হয়। এটি একটি নীতিকথা কিন্তু বাস্তব ক্ষেত্রেও সত্য। দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেলে মানুষের সামনে যত প্রতিবন্ধকতায় আসুক না কেন তাকে আর ভয় পায় না,   অকুতোভয় সাহসী মানুষ।ভয়কে কে জয় করে আবার নতুন করে জীবন শুরু করে। এই কথাটি চূড়ান্তভাবে সত্য। বাংলাদেশে ১৯৭১ সালে  ১৬ই ডিসেম্বরে চূড়ান্ত বিজয় লাভ করলেও মেলেনি কাঙ্খিত সফলতা।মিলেছিল রিক্ত স্বাধীনতা। যারাই ক্ষমতায় এসেছে তারাই চেয়েছে তাদের ভাগ্যের উন্নয়ন করতে। জনগণের ভাগ্যের উন্নয়নের জন্য তারা কোন কাজেই করেনি বরং বাংলাদেশের জনগণের ভাগ্য নিয়ে ছিনিমিনি খেলা হয়েছে। সবাই শুধু  জনগনকে শোষণ আর বঞ্চনার শিকার করে গেছে। এই ক্ষোপ এর ধারাবাহিকতায় বাঙালি জাতি মাথা উঁচু করে বাঁচার জন্য পদে পদে আন্দোলন করে ৯০ দশকে সব দল ঐক্যবদ্ধ বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে স্বৈরাচার এরশাদ সরকারের পতন ঘটায়। শুরু হয় নতুন এক পথযাত্রার। কিন্তু তবুও থেমে থাকেনি  বাংলাদেশের দুর্নীতি, লুটপাট আর অর্থপাচারের কেলেঙ্কারি। যারাই ক্ষমতায় এসেছে তারাই তাদের আখের গোছানো নিয়ে ব্যস্ত ছিল তাদের নেতা কর্মীর পেট ভরানোর ব্যস্ত ছিল জনগণের ভাগ্যর উন্নয়ন নিয়ে দেশের উন্নয়নে কাজ করার মানসিকতা থেকে সরে এসেছিল। বাংলাদেশ থেকে পাচার করেছে শত শত, হাজার হাজার, কোটি টাকা। যে টাকাগুলো হলে বাংলাদেশ বিশ্ব দরবারে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারতো অনেক আগেই ।  গতবছর ২৪ এর গণঅভ্যুত্থান পচা সামুখকে পা কাটলো বিগত সরকারের প্রধানমন্ত্রীকে । এক সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে বিগত সরকারের প্রধানমন্ত্রী উত্তরে বলেছিলেন মুক্তিযুদ্ধার ছেলেমেয়েরা মেধাবী না সব রাজাকারের ছেলেমেয়েরা মেধাবী মুক্তিযুদ্ধের ছেলেমেয়েরা চাকরি পাবে না তো রাজাকারের ছেলে মেয়েরা চাকরি পাবে । তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী এমন কথায় বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছিল গোটা বাঙালি জাতি। একটি কথা গোটা বাঙালি জাতির মাথাকে নিচু করে দিয়েছিল। সকল মানুষ, ছাত্র জনতা, রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ এই কথার প্রতিবাদের  জের ধরেই  আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটাতে বাধ্য করে। ছাত্র জনতার তোপের মুখে পদত্যাগ  করে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী। পরে  বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সহায়তায় বাংলাদেশ থেকে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয় প্রধানমন্ত্রী ওর তার পরিবারের সদস্যগণ । তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী সময় শুধুমাত্র কোঠার আন্দোলন  এর দাবি নিয়ে ছাত্ররা মাঠে নেমে এসেছিল। কিন্তু ছাত্রদের সেই কোটা আন্দলনের দাবিকে উপেক্ষা করে সরকারি চাকুরীরত পুলিশ প্রশাসনকে ব্যবহার করে প্রথম উত্তরবঙ্গের ছেলে আবু সাঈদের বুকে গুলি চালায় আবু সাঈদ মাটিতে লুটিয়ে পড়ে কিন্তু আবু সাঈদ ছিল এক সাহসী যোদ্ধার নাম  । আবু সাঈদ বীর এর মতো হাত উচু করে বুক পেতে দিয়েছিল বিশ্বাসে যে তিনি এই বাংলাদেশের সন্তান। তার বুকে বাংলাদেশের পুলিশ প্রশাসন   গুলি চালাতে পারবে না। এই বিশ্বাসকে ধারণ করে আবু সাঈদ হাত উঁচু করে পুলিশের সামনে মাথা নত না করে মাথা উঁচু করে বুক পেতে দিয়েছিল। আবু সাঈদ হয়তোবা এটাও বিশ্বাস করেছিল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীর বুকে গুলি চালাতে পারবেনা  বাংলাদেশ স্বাধীন রাষ্ট্রের পুলিশ প্রশাসন। কিন্তু আবু সাঈদ ভুলেই গিয়েছিল যে দেশে সত্যকে প্রমাণ করতে বছরের পর বছর অপেক্ষা করতে হয়। যে বাংলাদেশের সাংবাদিক সাগর রুনির মত অনুসন্ধানী সাংবাদিকদের বিচার হয় না। যেখানে দ্রব্যমূল্যের উদ্যগতি হলেও মানুষ তার অধিকার তার স্বাধীনভাবে কথা বলার সাহস কে নস্যাত করে দেওয়া হয়েছে, সেই দেশের পুলিশ সেই সরকার  এর গোলামী না করে মানবতার গোলামী করবে। স্বৈরাচার শাসকদের ক্ষমতার অপব্যবহার ও তাদের প্রতি  বেশি চাটুকারিতা আবেগ দেখাতে গিয়ে অকাতরে গুলি করবে, শহীদ হতে হবে,  এটা হয়তো বোধগম্যই ছিল না।  যে স্বপ্ন নিয়ে রংপুর বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় পড়ার জন্য উচ্চশিক্ষিত চাকরি করে গরিব মধ্যবিত্ত পরিবারের হাল ধরবে তাকেই যে  পুলিশের গুলিতে জীবনের বিনিময়ে ইতিহাসের পাতায় লেখা হয়ে থাকতে হবে এটা কখনো কল্পনাই করতে হয়তো পারেনি। ২৪ শে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আন্দোলনে উত্তরবঙ্গের সুযোগ্য সন্তান যা গোটা বাংলাদেশের মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে থাকার এক নাম শহীদ  আবু সাঈদ কে অনুপ্রেরণায় নিয়ে। ছাত্র জনতা তথা বাঙালি জাতি মাঠে নেমে পড়ে ফুসে উঠে সারা বাংলাদেশ এর মানুষ।  এরই ধারাবাহিকতায় পতন ঘটে বিগত সরকার প্রধানের। ছাত্র জনতা তাদের জীবন বাজি রেখে শত শত  জীবন বলিদান দিয়ে ছিনিয়ে  আনতে সক্ষম হন কাঙ্খিত সফলতা। যে দেশ তাদের নিজের ভাষা বাংলা ভাষার জন্য ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে ছাত্রদের জীবনের বিনিময়ে  ১৯৫২ সালে ২১ ফেব্রুয়ারি বাংলা ভাষা কে রাষ্ট্রীয় ভাষায় পরিণত করতে জীবন দিতে হয়েছিল সেই জাতি তথা সেই বাঙালি জাতির সন্তানদের কোন বাধায় দাবি রাখতে পারার কথা না ইতিহাস সাক্ষী কেউ কখনো পারেনি পারবেও না। বাঙালি জাতি পৃথিবীর বুকে একটি দেশ যে দেশ  এর শিক্ষার্থীরা বাংলা ভাষার জন্য জীবন দিতে পারে সে দেশের ছাত্র ও জনতাকে কখনো কোন সরকার  শৃংখলে বেঁধে রাখতে পারেনি ভবিষ্যতে পারবেও না। তাইতো ২৪ এর গণঅভ্যুত্থানেও এই বাঙালি জাতি তথা ছাত্র ও জনতাকে দাবায় রাখতে পারেনি। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট বিগত সরকার  যখন দেশ ত্যাগ করতে বাধ্য হয়, তখন দেশে নেমে আসে বাংলাদেশের এক ক্রান্তিময় সময়। যে সময়ে কয়েকদিন মানুষের চোখে ছিল না কোন ঘুম, উৎকণ্ঠা ও আতঙ্কের মধ্যে জীবন পার করতে হয়েছে সাধারণ মানুষকে। পুলিশ প্রশাসন তাদের ভুল বুঝতে পেরে কয়েকদিন দায়িত্ব পালন থেকে বিরত থাকে। বাংলাদেশের এই ক্রান্তিময়  সমস্যা কে নিরসন করতে বাংলাদেশের সেনাবাহিনীর প্রধানের আশ্বস্তে রাষ্ট্রপতির কাছে দফায় দফায় বৈঠকের পর  বাংলাদেশের রাজনীতিবিদ, সুশীল সমাজ, ছাত্র জনতাকে সঙ্গে নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছে একটি অন্তবর্তী কালীন সরকার এর রুপরেখা দেয়া হয়। সেই রূপরেখা হিসাবে শপথ গ্রহণ করেন অন্তবর্তী কালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা। অন্তবর্তী কালীন সরকারের প্রধান হিসেবে উপদেষ্টার দায়িত্ব গ্রহণ করেন বাংলাদেশে শান্তিতে একমাত্র নোবেল বিজয়ী প্রফেসর ড.  মুহাম্মদ ইউনুস। অন্তবর্তী কালীন সরকার তাদের দায়িত্ব গ্রহণ করার পরেই প্রশাসনের রদবদল আনতে শুরু করেন। কিন্তু তবুও দীর্ঘদিনের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন না ঘটায় মানুষের ভিতরে যে ক্ষোভ আর না  পাওয়ার হতাশা সৃষ্টি হয়েছিল তা থেকে প্রতিদিনই প্রায় বাংলাদেশের বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ তাদের দাবিগুলো জানাতে আন্দোলন চালাতে থাকে   একটার পর একটা দাবির আন্দোলন অব্যাহত চলতে থাকে। এরই ধারাবাহিকতায় মাঠ প্রশাসনে জেলা প্রশাসকদের রদ বদল শুরু হয়। স্বাধীনতার পর থেকে সবচেয়ে বৈষম্যের শিকার হয়ে এসেছিল উত্তরবঙ্গের জেলাগুলো তার মধ্যে অন্যতম জেলা গাইবান্ধা। উত্তরবঙ্গ জেলা গুলো যেখানে অবহেলিত স্বাধীনতার দীর্ঘ বছর পেরিয়ে গেলেও উত্তরবঙ্গের জেলাগুলোতে তেমন কোন উন্নতির ছোঁয়া লাগেনি, বেকারত্ব দূরীকরণের জন্য কোন সরকারই উত্তরবঙ্গের গাইবান্ধা জেলায় সুদূরপ্রসারী  পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি।  দীর্ঘ পথ সময় অতিক্রম করেও উত্তরবঙ্গের জেলা গাইবান্ধায় কোন কর্মসংস্থান করতে পারেনি। অনেক সুখ ও সমৃদ্ধির আশা নিয়ে উত্তরবঙ্গের মানুষ বুক বেঁধে ছিল অন্তত গাইবান্ধা জেলায় একটি কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, একটি ইপিজেড ও বালাসি বাহাদুরাবাদ ঘাটে একটু সেতু অথবা ট্যানেল নির্মাণ করতে পারত সেটিও অধরাই রয়ে গেছে। অন্তবর্তী কালীন সরকারের দায়িত্ব নেওয়ার পরেই মাঠ প্রশাসনের রদ বদলের ধারাবাহিকতায় ২০২৪ সালের ১২ই সেপ্টেম্বর গাইবান্ধা জেলায় যুক্ত হন জেলা প্রশাসক চৌধুরী মোয়াজ্জম আহমদ। চৌধুরী মোয়াজ্জম আহমেদের কথা বর্ণনা করতে গিয়ে নাকি শেষ করা যাবে না এমনটাই বলেছেন সদ্য বিদায়ই অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক রাজস্ব জহির ইমাম। সাধারণ মানুষের দৃষ্টিতে একজন   সাধারণ জীবন যাপন করা  অতিসাধারণ মানুষকে জেলা প্রশাসক হিসেবে পেয়ে গাইবান্ধা জেলার মানুষ   উচ্চসিত ও প্রফুল্ল হয়ে উঠে। সাধারণ ছাত্র জনতা থেকে শুরু করে সকল সেক্টরের মানুষ তার আচার-আচরণ ব্যবহারে মুগ্ধ। তিনি এমন একজন মানুষ গোটা গাইবান্ধার জেলা প্রশাসনকে নিয়ে গাইবান্ধা জেলাকে কিভাবে উন্নত, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন নগরী হিসেবে গড়ে তোলা যায়, এজন্য সুধীজন এর পরামর্শ, সাংবাদিক, সুশীল সমাজের পরামর্শে, ধাপে ধাপে এগিয়ে যেতে থাকেন। নেতা হতে নয় নেতৃত্ব দিতে নয় অন্তবর্তী কালীন সরকারের  দেয়া কার্যাবলী নিয়ম অনুযায়ী সুনির্দিষ্ট ভাবে মানুষের সেবায় পরিণত করতে একজন জেলা প্রশাসকের যেভাবে করা দরকার সেগুলো তিনি রুটিন অনুযায়ী করতে থাকেন। পরিবর্তন হতে থাকে গাইবান্ধা জেলা। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন নগরীতে পরিণত হয় গাইবান্ধা জেলা শহর। উন্নয়নের দুয়ার খুলতে থাকে জেলা শহরে। যে শহরে রাতের বেলায় কোন আলোর ব্যবস্থা ছিল না জেলা প্রশাসক চৌধুরী মোয়াজ্জম আহমদের যুগান্তকারী নেতৃত্ব ও সুনির্দিষ্ট পরামর্শে গাইবান্ধা জেলা শহর রাতের বেলা এখন দিনের আলোর মতো পরিষ্কার একটি শহরে পরিণত হয়েছে। গাইবান্ধা জেলায় যোগদান করেই যাদেরকে নিয়ে মাঠ প্রশাসন তাদেরকে সপরিবারে দিনাজপুর জেলার স্বপ্নপুরীতে নিয়ে যান। স্বপ্ন দেখাতে নয় স্বপ্ন বাস্তবায়ন করার জন্য একটি ফ্যামিলি ডে আয়োজন করেন গাইবান্ধার জেলা প্রশাসন। ফ্যামিলি ডেতে গাইবান্ধা থেকে বাসে করে  কাজের গতি বাড়ানোর জন্য সু চিন্তিত সুপরিকল্পিত একটা দিন অতিবাহিত করেন সকল স্তরের কর্মকর্তা কর্মচারীদের সঙ্গে। দিনাজপুর জেলার ফুলবাড়ির স্বপ্নপুরীতে জেলা প্রশাসনে সঙ্গে যুক্ত সবাইকে নিয়ে মানসিকতার পরিবর্তন আনতে গুরুত্বপূর্ণ অবকাশ ও  ভালোলাগার অনুপ্রেরণা থেকে কাজের  বিভিন্ন রকম অনুভূতির জায়গা থেকে তিনি এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। সুনামের সাথে সফল হন এবং সকল মাঠ প্রশাসনের কাছে একজন বিভাগীয় প্রধানকেও উপস্থিত করাতে ও সবার সাথে পরিচয় করে দিতে সক্ষম হন। গাইবান্ধার জেলা প্রশাসন যাতে দুর্নীতিগ্রস্ত না হয় প্রত্যেক দপ্তরকে নিয়ে পরামর্শের মাধ্যমে দুর্নীতির হার যাতে কমে আসে ধীরে ধীরে সে ব্যাপারে যথেষ্ট পদক্ষেপ নেয়। গাইবান্ধা অবহেলিত জেলা ক্রীড়া সংস্থায় এককালীন ক্রীড়া সংস্থার উন্নয়নের জন্য  ২৫ লক্ষ টাকার এফডিআর করে দেন। এই এফডিআর এর টাকা যে মুনাফা আসবে সেটি দিয়ে ক্রীড়া সংস্থা অনন্য উচ্চতার দ্বার প্রান্তে দাঁড়িয়ে যাবে। জেলা ক্রীড়া সংস্থার অফিসার না থাকায় অনেকটা বিঘ্নতার সৃষ্টি হয়েছিল বিগত দিনে তিনি জেলা ক্রীড়া সংস্থার একজন অফিসার কে যুক্ত করেন গাইবান্ধা জেলা ক্রীড়া সংস্থায়। পাল্টে যেতে থাকে গাইবান্ধা ক্রীড়া  সংস্থার চিত্র।একের পর এক ধারাবাহিকতা রক্ষা করে, একের পর এক এক খেলাধুলা আয়োজন করে জেলায় স্টেডিয়াম গাইবান্ধায় কে গাইবান্ধা জেলা বাসীর কাছে আশীর্বাদ হিসেবে পরিণত করেন। অনুষ্ঠিত হতে থাকে জেলা প্রশাসক ক্রিকেট টুর্নামেন্ট, জেলা প্রশাসক ফুটবল টুর্নামেন্ট, আন্তঃ স্কুল ফুটবল টুর্নামেন্ট, আয়োজন করতেই থাকেন। উল্লেখ্য যে  জেলা প্রশাসক কাপ ফুটবল টুর্নামেন্টে বাঁধভাঙ্গা উচ্ছ্বাস নিয়ে মানুষ প্রতিদিন খেলা দেখতে আসে। যেখানে বিগত দিনগুলোতে স্টেডিয়ামে দর্শকের ছিল শূন্যতা সেখানে সুদূরপ্রসারী সুচিন্তারি ফসল হিসেবে পূর্ণতা পায় হাজার হাজার দর্শকের উপস্থিতিতে জেলা স্টেডিয়াম গাইবান্ধ। জেলা প্রশাসক ফুটবল টুর্নামেন্টে গড়ে পঞ্চাশ লক্ষ মানুষের পা পরে জেলা স্টেডিয়ামে। ক্রীড়াঙ্গনের উন্নতির ধারাবাহিকতা রাখতে যেয়ে যখন দেখলেন গাইবান্ধার সংস্কৃতির অঙ্গনকে ও উন্নতি করা দরকার,  শিল্পকলার উন্নতি করা দরকার। শিল্পকলায় নিযুক্ত করলেন একজন কালচারাল অফিসার যার নেতৃত্বে গাইবান্ধায় সংস্কৃতি অঙ্গনও হয়ে উঠলো রমরমা সংস্কৃতির শিল্পকলা। শত প্রতিকূলতা ও বাধা সত্বেও গাইবান্ধার গায়েন সেরা কন্ঠশিল্পীর অন্বেষণে গাইবান্ধার গায়েনের প্ল্যাটফর্ম থেকে পাঁচ শতাধিক শিল্পী বাছাই করে বিচারকদের উপস্থিতিতে সেরা কণ্ঠশিল্পীর অন্বেষণে এক থেকে পাঁচজন, ৫ থেকে ১০ জন, ১০ জন থেকে ২০ জন, ২০ জন থেকে ৩০ জন, ৩০ থেকে ৪৮ জন একটি প্ল্যাটফর্মে নিয়ে এসে তাদেরকে বিভিন্ন জায়গায় গান গাওয়ার সুযোগের ব্যবস্থা করে দেন। কর্মব্যস্ততার মাঝে একজন জেলা প্রশাসক হিসেবে চেয়ারে যতক্ষণ থাকেন তখন পদাধিকার বলে তাকে জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের পদ ব্যবহার করতে হয় কিন্তু দিন শেষে সন্ধ্যাবেলায় সবার কাছে তিনি একজন সাধারণ মানুষ এবং কর্মচারীদের কাছে একজন ভালো বন্ধু হিসেবে জায়গা করে নিয়েছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন কর্মচারী বলেন বিগত দিনে অনেক জেলা প্রশাসক গাইবান্ধায় এসেছিল কিন্তু সকল সাধারণ মানুষের একজন আস্থাবাজন জেলা প্রশাসক শুধু চৌধুরী মোয়াজ্জম আহমদ স্যার হয়ে উঠেছেন হয়ে উঠেছেন। তিনি নিজে খেলা পছন্দ করেন। কর্মচারীদের শারীরিক বিকাশ শারীরিক সুস্থতার জন্য বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা কর্মচারীদের সঙ্গে নিজে খেলেন অন্যকে খেলার সুযোগ করে দেন। মাটি ও মানুষের স্বপ্ন পূরণের জন্য একজন প্রশাসক তৃণমূল থেকে শুরু করে সবার আস্থা অর্জন করতে পারেন তার এই দৃষ্টান্ত তিনি রেখে যাচ্ছেন তার গুণাবলির কারণে। গাইবান্ধা বাসীর দীর্ঘদিনের চাওয়া গাইবান্ধা বাসির প্রেমে যেমন তিনি পড়েছেন গাইবান্ধা বাসি ও তার কর্মকাণ্ডে মুগ্ধ হয়ে তার প্রেমে পড়ে গেছেন।  এমন ভালো মানুষ গাইবান্ধার যতদিন থাকবেন গাইবান্ধা জেলাকে উন্নতির ছোঁয়াসহ বিভিন্ন উচ্চতায় নিয়ে যাবেন । জেলা প্রশাসকের গোপনীয় শাখার কর্মরত কর্মচারীগণ কাছে জেলা প্রশাসকের বিষয়ে জানতে চাইলে তারা বলেন গাইবান্ধা জেলায় প্রতি  বুধবার গাইবান্ধার বর্তমান জেলা প্রশাসক গণশুনানি করেন এই গণশুনানির দিনে তিনি কোন মিটিং করেন না বা মিটিং রাখেন না যদি জরুরী পরিস্থিতিতে হয় মিটিং করতেই হয় অন্যদের দ্বারা সেটি সমাধান করেন। তবু তিনি বুধবারের দিনটিকে জনগণের সেবক হিসেবে সকল স্তরের জনগণের কথা শোনার জন্য সকালে  বসে সন্ধ্যা পর্যন্ত গন মানুষের কথা শুনেন এবং সমাধান দেওয়ার চেষ্টা করেন। এতে যারা জেলা প্রশাসকের কাছে আসেন তারা তার ব্যবহার এবং কথা শোনার আগ্রহ দেখে মুগ্ধ হয়ে স্যার এর জন্য দোয়া করে চলে যান। জেলা প্রশাসকের বাংলোতে থাকা নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন কর্মচারীর সঙ্গে কথা হলে তারা জানান গাইবান্ধার জেলা প্রশাসক স্যার যেমন মাধুর্যপূর্ণ ব্যবহার এবং তিনি যতটা ধৈর্যশীল তার   সহধর্মিনী একজন ধৈর্যশীল সৎ মানুষ যার সংস্পর্শেই পরশ পাথরের মত তথা পরশ পাথরের ছোঁয়ায় যেমন মানুষের জীবন পাল্টে যায় তেমনি তার সহধর্মিনী পরামর্শ সততার প্রতি নিবিড় কর্তব্যপরায়ণ উচ্চশিক্ষিত হওয়ায় আমাদের কোন বাহির থেকে কোন কিছু প্রয়োজন হলেও আমাদেরকে আনতে দেয়না মিসেস স্যার তাদের প্রয়োজনীয় বাজার তারা নিজ হাতেই করে থাকেন। মিসেস স্যার তাদের সন্তানকে যেমন ভালোবাসেন আমাদের কেউ সন্তানের মতোই ভালোবাসেন। স্যারের  সহধর্মিনী এবং তিনি ছাড়া তার বাংলোতে   কোন  কর্মচারী দ্বারা বাজার করার না। স্যারদের যতটুকু প্রয়োজন ততটুকুই তারা শুধু  নিজ হাতে বাজার করে নিয়ে আসেন আমাদের  অনন্য একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন স্যার ও মিসেস স্যার। সব শ্রেণী পেশার মানুষকে তিনি মানুষ হিসেবে দেখেন। গাইবান্ধার প্রত্যেকটি শ্রেণী পেশার মানুষ যেভাবে তার ভালোবাসা পেয়েছেন যুগ যুগ ধরে এমন জেলা প্রশাসকের নাম গাইবান্ধায়  জেলায় স্বর্ণাক্ষরে লেখা  না থাকলেও মানুষের হৃদয়ে লেখা থাকবে চৌধুরী মোয়াজ্জম আহমদ স্যারের নাম। খুব অল্প দিন হলো বদলি হয়েছেন রাজস্ব শাখার  অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক  জহির ইমাম চলে যাওয়ার সময় এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন এমন জেলা প্রশাসক কে বস হিসেবে পাওয়া ভাগ্যের বিষয়।স্যারকে বস হিসেবে পেয়ে কাজ করে গাইবান্ধা রাজস্ব শাখায় সেবার দৃষ্টান্তমূলক পরিবর্তন আনা সম্ভব হয়েছে। এমন জেলা প্রশাসক যে জায়গায় কাজের স্বার্থে বদলি হয়ে যাবেন তার কাজের কারণে উত্তরোত্তর সাফল্য লাভ করবেন একদিন বাংলাদেশের সর্বোচ্চ জায়গায় তার কর্মদক্ষতায় অবস্থান করবেন। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক( সার্বিক) শারমিন আখতার তার বিদায় বেলায় কান্না ভেজা কন্ঠে বলেন প্রথমে আমি গাইবান্ধায় জেলায় আসতে চাইনি। উত্তরবঙ্গের জেলায় অনেকেই আসতে চায় না কিন্তু আজ যখন আমাকে চলে যেতে হচ্ছে আজ আমার মন  যেতে চাচ্ছে না। কারণ আমি গাইবান্ধা জেলায় এমন  একজন জেলা প্রশাসক সারকে পেয়েছিলাম তিনি কখনো আমার প্রতি বা আমরা যারা একসাথে কর্মরত ছিলাম কখনোই বস গিরি দেখেননি বরং স্যার আমাদেরকে   অফুরন্ত স্বাধীনতা কাজ করার সুযোগ দিয়েছিলেন আমরা তার এই সুযোগে সুন্দর ও সাবলীলভাবে কাজ করতে পেরেছি। আমার দুটি সন্তান দুটি ছেলে বড় ছেলেকে স্কুলে ভর্তি করে দিয়েছিলাম আমি আমার বদলির জন্য কোন তদবির করিনি কিন্তু আমাকে যখন ঢাকায় বদলি করা হয়েছে তখন চাকরির কারণে আমাকে তো যেতেই হচ্ছে তবে আমার এখন খুব খারাপ লাগছে গাইবান্ধার মানুষ ভালো গাইবান্ধার মানুষ অতিথি পড়ায় না এবং একটুতেই তারা মানুষকে সম্মান করতে জানে না। আমার দীর্ঘ কয়েক মাস অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সার্বিকের দায়িত্ব পালন করায় গাইবান্ধার তেমন কোন মানুষ সরাসরি আমার কাছে না এসে স্যারের কাছে যাওয়ার সুযোগ পেয়েছে এই জন্য আরো কাজ করে আমরা স্বাচ্ছন্দ বোধ করে করতে পেরেছি তবে স্যারের জন্য দোয়া রইল উনি যেখানেই যাবেন যে স্থানে যাবেন এমন মানুষ সর্বদা উচ্চ শিখরে আসনে অধিষ্ঠিত হবে তাহলে দেশ ও জাতির তথা মানুষের কল্যাণ সাধন হবে।  ভালোবাসা দিয়েই তিনি আমাদের যে দপ্তরের কাজ সেটি সঠিকভাবে আদায় করে নিতে পেরেছেন সত্যিই সামনের দিনে সম্মানিত জেলা প্রশাসক চৌধুরী মোয়াজ্জম আহমদ স্যার যে জায়গায় অবস্থান করবেন সেই জায়গা থেকে আরো উত্তর উত্তর সাফল্য লাভ করবেন। দুর্নীতি যখন সারা বাংলাদেশের রন্ধে রন্ধে জায়গা করে নিয়েছিল ভালোবাসার মাধ্যমে সবাইকে ডেকে তিনি যে মেসেজটি দিয়েছেন তাতে মনে হয় আমরা বিমুগ্ধ হয়েছিলাম। একমাত্র সৃষ্টিকর্তার ভয় ব্যতীত বাংলাদেশ থেকে দুর্নীতি একদম নির্মূল করা সম্ভব নয় তবে ভালো মানুষের সংস্পর্শে ভালো নেতৃত্ব পেলে নৈতিক মূল্যবোধ নিয়ে মানুষ কাজ করলে ও নৈতিক মূল্যবোধ সম্পূর্ণ মানুষ হিসাবে গড়ে উঠলে বাংলাদেশ থেকে চিরতরে দুর্নীতি নির্মূল করা সম্ভব হবে। দুর্নীতি বাংলাদেশ থেকে দূর করতে হলে ছোটবেলা থেকেই একটা মানুষকে নৈতিক মূল্যবোধ সম্পূর্ণ মানুষ হিসেবে গড়ে উঠতে হবে আর এই বিষয়টি চিন্তা করে গাইবান্ধা জেলা প্রশাসক চৌধুরী মোয়াজ্জেম আহমদ “নীতিবান শিশু সুখী বাংলাদেশ” গাইবান্ধার জেলা প্রশাসক পাইলটিং  হিসেবে ৬১টি প্রাথমিক বিদ্যালয় নীতিবান শিশু গড়তে পাইলটিং প্রোগ্রামটি হাতে নিয়েছেন। তিনি চেয়েছেন বাংলাদেশ আজ যে অবস্থানে আছে আজকের শিশু যদি আগামীর ভবিষ্যৎ হয়,তাহলে  আগামীতে নীতিবান শিশু হিসেবে গড়ে উঠলে বাংলাদেশে আর থাকবে না দুর্নীতি বাংলাদেশ হবে একটি সুখী সমৃদ্ধ বাংলাদেশ। এই পাইলটিং প্রোগ্রামটি গাইবান্ধায় সফল হলে ছড়িয়ে পড়বে সারা বাংলাদেশে। তাহলেই বাংলাদেশ হবে একটি সুখী সমৃদ্ধ দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ। গাইবান্ধার সকল ফ্রিল্যান্সার শাহাদত হোসেন বলেন গাইবান্ধা জেলায় তেমন কোনো ভারী শিল্প কলকারখানা নেই। শিল্প প্রতিষ্ঠান কলকারখানা  না থাকায় বিকল্প পথ হিসাবে গাইবান্ধা জেলায় ফ্রিল্যান্সিং এর মাধ্যমে গাইবান্ধা জেলাকে বেকার মুক্ত করতে ইতিমধ্যেই একযোগে গাইবান্ধা জেলার জেলা প্রশাসক চৌধুরী মোয়াজ্জম আহমদ স্যারের নির্দেশনা গাইবান্ধার ৮০০শত যুবক যুব নারীদের প্রশিক্ষণ প্রদান করা হচ্ছে। প্রশিক্ষণে প্রশিক্ষককে গাইবান্ধার জেলা প্রশাসক একটি  নির্দেশনা প্রদান  করেছেন অবশ্যই তারা যেন প্রশিক্ষণ শেষে প্রত্যেকেই অন্তত ৩০ হাজার টাকা করে ইনকাম করতে পারেন নির্দেশনা যথাযোগ্য ভাবে প্রয়োগ করতে বলেছেন এবং প্রশিক্ষণ চলাকালীন সময় মনিটরিং এর মধ্যে রেখেছেন অবশ্যই যে স্বপ্ন নিয়ে গাইবান্ধা ছেলেমেয়েরা প্রশিক্ষণ গ্রহণ করছেন তা আর কিছুদিন গেলেই বাস্তবে রূপ নিবে। জেলা প্রশাসকের কাছে আসা দূর থেকে কয়েকজন প্রতিবন্ধকতা সম্পূর্ণ মানুষকে জিজ্ঞাসা করলে তারা বলেন আমরা প্রতিবন্ধকতা সত্ত্বেও সিঁড়ি বেয়ে দোতলায় উঠেছি শুধুমাত্র গাইবান্ধা জেলা প্রশাসকের সাথে কথা বলার জন্য আমরা জেনেছি তিনি সবার কথা মনোযোগ দিয়ে শুনে তাই আমরা এসেছিলাম। আসলেই সত্যি তার রুমে ঢুকতেই তিনি আমাদের চেয়ারে বসতে বলেন আমাদের কথা ভালোভাবে শুনেন আর আমাদের যে সমস্যা কোথায় গেলে সমাধান হবে তা তিনি দ্রুত মেসেজ পাঠিয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। কবির ভাষায়  বলি ” আমাদের দেশে সেই ছেলে কবে হবে কথায় না বড় হয়ে কাজে বড় হবে” আমাদের দেশে সেই ছেলে জন্মগ্রহণ করেছেন যে ছেলে উত্তরবঙ্গের একজন প্রশাসক হিসেবে গাইবান্ধা শতকরা ৮০% মানুষের অন্তরে জায়গা করে নিয়েছেন। আজ আমাদের মনে হচ্ছে আমাদের প্রতিবন্ধকতা কোন প্রতিবন্ধকতায় নয় এমন মানুষের সান্নিধ্যে আসতে পেরে খুবই ভালো লাগছে এমন মানুষ প্রত্যেক ঘরে ঘরে জন্ম নিক বদলে যাক আমাদের বাংলাদেশ। গাইবান্ধা জেলা শহরের গুয়ার ভিটা পৌরসভার বর্জ্য এলাকায় পরিদর্শনে গেলে গুহার ভিটা কয়েকজন প্রতিবেশী বলেন আমরা এক সময় মনে করেছিলাম আমরা বুঝি জন্ম নিয়ে পাপ করেছি। আমাদের দেখার কেউ ছিল না। ময়লার গন্ধে আমরা বাড়িতে ভাত খেতে পারতাম না ।এখন সেই গুহার  ভিটায় ফুলের বাগান হয়েছে। এখন জেলা প্রশাসকের সদিচ্ছায় পৌর প্রশাসকের তত্ত্বাবধানে ব্রাক  আরবান প্রজেক্ট এর মাধ্যমে গুহার ভিটায় যে রিসাইক্লিন ব্যবস্থা করা হয়েছে তাতে আমাদের এখন মনে হচ্ছে আমাদের গাইবান্ধায় জন্ম নেওয়া সার্থকতা হয়েছে। আমরা উপযুক্ত জায়গায় বাসা করেছি। কারণ গাইবান্ধা এমন একজন মানুষ এসেছেন যার নেতৃত্বের ফলশ্রুতিতে আজ আমরা ময়লার স্তুপে মশা মাছি তো দূরের কথা ময়লার স্তুপের যে গন্ধ ছিল তা আর নেই। আমরা এক সোনালী স্বপ্ন বুনছি। আমাদের অনেকেই এই ময়লার স্তুপের রিসাইক্লিনের কাজ করছে। একদিকে যেমন আমাদের বসবাসের উপযুক্ত জায়গা হয়ে উঠেছে অন্যদিকে কর্মের ব্যবস্থা হয়েছে আমরা সত্যিই আনন্দিত। মহান সৃষ্টিকর্তার কাছে  দোয়া করি এমন জেলা প্রশাসকের মত ভালো  মানুষ আমাদের গাইবান্ধা  জেলায় ও যেন জন্মগ্রহণ করে। জেলা প্রশাসক পরবর্তী যে জায়গায় যাক না কেন অবশ্যই তার জীবনে সুখ ও সমৃদ্ধি আসবে। যিনি মানুষের মঙ্গলে কাজ করেন সৃষ্টিকর্তা ও তার মঙ্গল অবশ্যই করে থাকেন। আমরা এটা বিশ্বাস করি। এতদিন আমরা মনে করেছিলাম আমরা কি স্বাধীন দেশে জন্মগ্রহণ করেছি আমাদের কি কেউ দেখবে না আমাদের এই দুর্গন্ধ মুক্ত করবে না। ঠিক দুর্গন্ধ মুক্ত হলো দীর্ঘদিনের কষ্ট থেকে আমরা রেহাই পেলাম। পেলাম এক মুক্ত স্বাধীনতা।  সত্যিই গাইবান্ধার বর্তমান জেলা প্রশাসন ভালো বংশে জন্মগ্রহণ করেছে এজন্যই তিনি এত ভালো মানুষ মানুষ,ভালো মনের মানুষ। যার কারণে আমরা আজ ঘরে নয় ময়লার স্তুপের জায়গাটিতে বসেও নাস্তা করতে পারছি। গাইবান্ধা জেলার সকল মানুষের হৃদয়ে লেখা থাকবে একটি নাম যার নাম চৌধুরী মোয়াজ্জম আহমদ।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও সংবাদ পড়ুন

স্বর্বস্বত্ব সংরক্ষিত-২০২৩-২০২৬,স্মার্ট টিভি,র ওয়েবসাইটের লেখা,ছবি,ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা দন্ডনীয় অপরাধ।

Developer By Zorex Zira