বাংলাদেশ কৃষি প্রধান দেশ। উত্তরবঙ্গের বিভাগ রংপুর আর এই বিভাগের উত্তরের জেলা গাইবান্ধা। গাইবান্ধা জেলায় দিগন্ত জুড়ে ইরি ধানের ক্ষেত চোখে পড়ার মতো। ধনধান্যে পুষ্পে ভরা আমাদের এই বসুন্ধরা তাহার মাঝে আছে এক দেশ সকল দেশের সেরা। বাংলাদেশের মাটি সোনার চেয়েও খাটি। এই বাংলার মাটিতে দিন রাত পরিশ্রম করে ফসল ফলায় বাংলার কৃষক।বাংলাদেশের উত্তর এর জেলা গাইবান্ধা। “স্বাদে ভরা রসমঞ্জুরী ঘ্রাণ চর অঞ্চলের ভুট্টা মরিচ গাইবান্ধার প্রাণ”। কৃষি নির্ভর জেলা গাইবান্ধা। এ জেলায় নানা ধরনের ফসলের পাশাপাশি কৃষকরা প্রতি বছরেই ইরি ধানের চাষাবাদ করে থাকে। এবছর গাইবান্ধা সদর, ফুলছড়ি, সাঘাটা, সুন্দরগঞ্জসহ বিভিন্ন চরাঞ্চলের পলি ও বেলে-দোআঁশ মাটির উর্বর জমিতে ও ইরি ধানের চারা লাগানো হয়েছে। বিস্তৃর্ণ এলাকা জুড়ে ইরি ধানের সবুজের সমারোহের এ দৃশ্য বিমোহিত করছে সকলকেই। এবছর ফলন ও বেশ ভালো দাম পাওয়ায় আশঙ্কা করছেন চাষিরা। বন্যা না হওয়ায় ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েনি কৃষকরা আমন ধানের আবাদ ও ভালো হয়েছে। সরেজমিনে বিভিন্ন মাঠগুলোতে দেখা গেছে ধানের চারার সবুজের দৃষ্ঠিনন্দন এ দৃশ্য। ইরি ধানের ক্ষেতে ক্ষেতে কৃষকের পরিশ্রম আর সঠিক পরিচর্যায় গাছও হয়ে উঠেছে সুস্থ সবল। এখন ইরি ধানের চারাগুলো শোভা পাচ্ছে টগবগে সবুজের সমাহার। আস্তে আস্তে খরচে গেলেও বেশি লাভের আশা করে না গাইবান্ধার কৃষক। হিসেবে দেখা গেছে গাইবান্ধা জেলা সহ বাংলাদেশের প্রধান খাদ্য হচ্ছে ভাত। তাই ধানে লাভ কম হলেও যার জমি নেই সেও চেষ্টা করে বন্ধক বা আদি নিয়ে জমিতে ইরি ধান রোপন করতে। গাইবান্ধার বর্তমান সময়ে কৃষক ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন ইরি ধান রোপনে । সারাদিন জমিতে শ্রম দিয়ে একটু আরাম-আয়েশে সন্ধ্যা বেলায় গিয়ে চায়ের দোকানে মনের সুখে এক কাপ চা না খেলেই নয় কৃষকের। ধান চাষে কিভাবে ফলন বৃদ্ধি করা যায় এবং চাষিরা বেশি লাভবান হবেন এদিক নিয়ে গাইবান্ধার বিভিন্ন ব্লকের মাঠ পর্যায়ে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারা নিয়োজিত আছেন, তারা সার্বক্ষনিক কৃষকদেরকে পরামর্শ দিয়েই যাচ্ছেন। কৃষকরা প্রকৃত পরামর্শানুযায়ী জমিতে ভাল ফলন পেতে জমিতে সারাদিন পড়ে থেকে স্বপ্ন গুনছেন ফসল ঘরে তুলতে।
স্থানীয় কৃষকরা জানায়, গাইবান্ধা জেলার বেশিবার কৃষক ইরি ধানের উপর নির্ভরশীল কিন্তু গাইবান্ধার চরাঞ্চলের মানুষ শুধু ইরি ধানের উপর নির্ভরশীল নয় চরাঞ্চলের বেলে মাটিতে ভুট্টা, মরিচ, বাদাম, পাটসহ বিভিন্ন ধরণের শাক-সবজি উৎপাদন করা হয়ে থাকে। এর মধ্যে মরিচ হচ্ছে কৃষকদের স্বপ্নের ফসল। যা দিয়ে পরিবারের মৌলিক চাহিদা পূরণ করা হয়। যার কারণে কয়েক বছর ধরে মরিচ উৎপাদনে ঝুঁকছে চরাঞ্চলের কৃষকরা। এবারও তার ব্যত্যয় ঘটেনি। গত বছরের তুলনায় আরো এবার বেশি জমিতে মরিচ আবাদ করা হয়েছে। গাইবান্ধার জেলার জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান মোল্লা ব্যবসায়ী সহ সুধী মহলের সাথে কথা বলে, গাইবান্ধা জেলাকে নিয়ে বিভিন্ন পরিকল্পনা গ্রহণ করেছেন। তার পরিকল্পনার অংশ হিসেবে অনেক সুধী মহলের পরামর্শে আগামী দিনে ফুলছড়ি বালাসিঘাটের মরিচ সহ কাঁচা সবজি যাতে সংরক্ষণ করা যায় এবং কৃষক কাঁচা সবজিতেই যাতে ভালো মুনাফা পান সে ব্যাপারে যুগান্তকারী পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন। সেই সঙ্গে গাইবান্ধার জেলা প্রশাসনের কঠোর মনিটরিং এর কারণে কালোবাজারে বেশি দামে বা এক জেলা থেকে অন্য জেলায় সার পাচার করার কোন সুযোগ নেই। গাইবান্ধায় কৃষকের যাতে সারের সংকট না হয় সে ব্যাপারে আগে থেকেই তৎপর ছিলেন গাইবান্ধার জেলা প্রশাসন যার ফলে কোন প্রকার সারের সংকট দেখা দেয়নি
গাইবান্ধা জেলা প্রশাসক মাসুদুর রহমান মোল্লা জানান , প্রকৃত কৃষককে তার উৎপাদিত ফসলের প্রকৃত মূল্য দিতে পারলে গাইবান্ধা জেলা হবে আরো সমৃদ্ধশালী জেলা। এবার গাইবান্ধা জেলায় আমন ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। গাইবান্ধা জেলার কৃষকদের মুখে আনন্দের হাসি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বিগত দিনগুলোতে কৃষকরা সরাসরি বাজারে তাদের কৃষি পণ্য বিক্রি করতে না পারায় মধ্যস্বত্বভোগী কৃষকের উৎপাদিত পণ্যের দামের চেয়ে দ্বিগুণ মুনাফা লাভ করেছে। যার ফলে কৃষকের ভিতরে একটা অস্থিরতা অসস্তি কাজ করতো। এখন এটা আর করতে দেয়া হবে না। ব্যবসায়ীরা লাভ করবে। কিন্তু কৃষক যে পণ্য উৎপাদন করে মাথার ঘাম পায়ে ফেলে তাদেরকেই ন্যায্য মূল্য দিতে হবে। এ ব্যাপারে গাইবান্ধার জেলা প্রশাসন যুগান্তকারী পদক্ষেপ নেবে বলে তিনি আশা ব্যক্ত করে। উল্লেখ্য যে শীতের শুরুতেই ইরি ধানের বীজতলায় কুয়াশার কারণে কিছুটা বীজতলা ক্ষতির আশঙ্কা থাকলেও সৃষ্টিকর্তার অসীম কৃপায় আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় তেমন কোন ক্ষতি হয়নি। কৃষক স্বাচ্ছন্দে বীজতলা থেকে বীজ তুলে জমিতে রোপণ করতে পেরেছে যার কারণে দিগন্ত জুড়ে সবুজের সমারোহ চোখে পড়ছে। গাইবান্ধা খামারবাড়ি কৃষি অধিদপ্তরের উপ -পরিচালক আতিকুল ইসলাম জানান ১৫- ২ -২০২৬ ইং তারিখ পর্যন্ত ইরি ধানের চারা রোপন করা হয়েছে ৯১,১৩৫ হেক্টর জমিতে। এবারে গাইবান্ধা জেলার ইরি ধানের চারা রোপনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে এক লক্ষ ২৯ হাজার ২০ হেক্টর জমিতে। আশা রাখি লক্ষ্যমাত্রা পূর্ণ হবে।
Leave a Reply