1. [email protected] : admin :
রমজানের আগেই ভোজ্যতেলের দাম বাড়াতে চান ব্যবসায়ীরা - সত্য ও ন্যায়ের কথা বলে
মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ০৪:১১ পূর্বাহ্ন

রমজানের আগেই ভোজ্যতেলের দাম বাড়াতে চান ব্যবসায়ীরা

Reporter Name
  • Update Time : মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬
  • ২০ Time View

অর্থনীতি ডেস্কঃ

আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যের দাম ও পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধির যুক্তি দেখিয়ে পবিত্র রমজানের আগেই ভোজ্যতেলের দাম লিটারপ্রতি ১৫ টাকা বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। অন্যদিকে খেজুর আমদানিতে শুল্ক ছাড় চেয়েছেন আমদানিকারকেরা।

সোমবার (২৬ অক্টোবর) রমজান সামনে রেখে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের আমদানি প্রস্তুতি, সরবরাহের সমস্যা ও বাজারদর পর্যালোচনায় বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদিরের সঙ্গে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এসব প্রস্তাব দেওয়া হয়।

তবে ভোজ্যতেলের দাম বাড়ানোর বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। খেজুর আমদানিতে শুল্ক ছাড়ের প্রস্তাবটি জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সঙ্গে আলোচনা করা হবে বলে জানিয়েছে মন্ত্রণালয়।

আমদানিকারকদের হিসাবে, বর্তমানে খেজুর আমদানিতে প্রায় ৫৫ শতাংশ শুল্ক ও কর দিতে হয়। তাঁদের দাবি, শুল্কায়নমূল্য বেশি নির্ধারণ এবং পরিবহন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় খেজুর আমদানির খরচ বাড়ছে।

আমদানিকারকেরা জানান, মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে পণ্য পরিবহন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। বিকল্প পথে পণ্য আনতে হওয়ায় পরিবহন ও সরবরাহ ব্যয় বেড়েছে। পাশাপাশি ঋণপত্র (এলসি) খোলার জটিলতা অব্যাহত থাকলে পণ্য সরবরাহে আরও বিঘ্ন ঘটতে পারে।

বাণিজ্যমন্ত্রী খেজুরের জাত, মান ও দামের পার্থক্য বিবেচনায় রেখে স্বচ্ছ ও যৌক্তিক শুল্ক কাঠামো নির্ধারণের আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, মিসর, সৌদি আরব, ইরাক ও আলজেরিয়াসহ প্রায় এক ডজন দেশ থেকে বিভিন্ন মানের খেজুর আমদানি করা হয়। এসব খেজুরের জন্য একই শুল্কায়নমূল্য নির্ধারণ করা হলে জটিলতা দেখা দিতে পারে।

আমদানিকারকেরা নির্ধারিত শুল্কায়নমূল্যের পরিবর্তে খেজুরের প্রকৃত মান ও বাজারদরের ভিত্তিতে শুল্ক নির্ধারণের দাবি জানিয়েছেন। তাঁদের মতে, সাধারণ মানের খেজুরের প্রকৃত দামের তুলনায় বেশি শুল্কায়নমূল্য নির্ধারণ করায় শুল্ক ও আমদানি ব্যয় বাড়ছে।

একই সঙ্গে ফল আমদানিতে আরও নমনীয় করব্যবস্থা চালুর দাবি জানান তাঁরা। আমদানিকারকদের যুক্তি, উচ্চ শুল্কের কারণে ফলের দাম সাধারণ ক্রেতাদের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে যাচ্ছে।

আমদানি শুল্ক নির্ধারণের দায়িত্ব এনবিআরের হলেও এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় প্রয়োজন বলে বৈঠকে আলোচনা হয়।

খেজুর আমদানিতে বিদ্যমান শুল্ক ছাড়ের সুবিধা দ্রুত কার্যকর করার বিষয়টিও আলোচনায় আসে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, এ বিষয়ে অভ্যন্তরীণ প্রস্তুতি ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। আমদানিকারকদের সমস্যাগুলো সমাধানে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

রমজান সামনে রেখে আমদানি বেড়েছে

পবিত্র রমজান সামনে রেখে ইতোমধ্যে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের আমদানি বেড়েছে। বাজারে পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত করতে ব্যবসায়ীদের সময়মতো প্রয়োজনীয় পণ্য আমদানির আহ্বান জানিয়েছে সরকার।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের বৈঠকে বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনের উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের ১ জুলাই থেকে ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত ভোজ্যতেল, চিনি, ছোলা, মসুর ডাল ও খেজুরের আমদানি গত বছরের একই সময়ের তুলনায় বেড়েছে।

এ সময়ে দেশে মোট ৮ লাখ ২৩ হাজার টন ভোজ্যতেল আমদানি হয়েছে। গত বছরের একই সময়ে আমদানির পরিমাণ ছিল ৭ লাখ ৫ হাজার টন। অর্থাৎ আমদানি বেড়েছে ১ লাখ ১৮ হাজার টন।

ভোজ্যতেল আমদানির জন্য এলসি খোলা হয়েছে ৮ লাখ ৫ হাজার টনের, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ১ লাখ ৩১ হাজার টন বেশি।

চিনি আমদানি হয়েছে ৬ লাখ ৮৭ হাজার টন। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় তা ১ লাখ ৫৩ হাজার টন বেশি। এ সময়ে চিনি আমদানির জন্য এলসি খোলা হয়েছে ৮ লাখ ১০ হাজার টনের।

রমজানে ইফতারের অন্যতম প্রধান উপকরণ ছোলার আমদানিও উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। চলতি অর্থবছরের ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত দেশে ছোলা এসেছে ৮২ হাজার টন। গত বছরের একই সময়ে আমদানি হয়েছিল ১২ হাজার টন। ফলে আমদানি বেড়েছে ৭০ হাজার টন। এ সময়ে ছোলা আমদানির জন্য এলসি খোলা হয়েছে ১ লাখ ৩৮ হাজার টনের।

অন্যদিকে মসুর ডাল আমদানি হয়েছে ১ লাখ ২২ হাজার টন, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৬৪ হাজার টন বেশি। এ পণ্য আমদানির জন্য এলসি খোলা হয়েছে ১ লাখ ১৪ হাজার টনের।

চলতি বছরের ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত খেজুর আমদানি হয়েছে ১১ হাজার টন। গত বছরের একই সময়ে এর পরিমাণ ছিল ৪ হাজার টন।

বৈঠকে ব্যবসায়ীদের নির্ধারিত সময়ে পণ্য আমদানি এবং বাজারে সরবরাহ নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে সরকার প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেবে বলেও আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, রমজানে ভোজ্যতেল, চিনি, মসুর ডাল, ছোলা, খেজুর, মুরগি ও ডিমের চাহিদা স্বাভাবিক মাসের তুলনায় দ্বিগুণ হয়ে যায়।

তিনি বলেন, বাড়তি চাহিদা মোকাবিলায় আগাম প্রস্তুতির অংশ হিসেবে সংশ্লিষ্ট খাতের ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলোচনা করা হয়েছে। তাঁদের আমদানির প্রস্তুতি এবং কোনো সমস্যা রয়েছে কি না, সে বিষয়ে খোঁজ নেওয়া হয়েছে।

বড় ব্যবসায়ীদের কারণে সংকটে ছোট ডাল মিল

রমজানে ছোলা ও মসুর ডালের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা এবং দাম স্থিতিশীল রাখার প্রস্তুতি রয়েছে বলে মন্ত্রণালয়কে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। তবে ছোট ডাল মিলগুলোর ব্যবসা পরিচালনায় নানা সমস্যার বিষয়ও বৈঠকে উঠে এসেছে।

বাংলাদেশ ডাল ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি হাজী নেসার উদ্দিন বলেন, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় চায় রমজানে ছোলা ও মসুর ডালের সরবরাহ ও দাম স্বাভাবিক থাকুক। ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকেও স্বাভাবিকভাবে ব্যবসা চালিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতির কথা জানানো হয়েছে।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও সংবাদ পড়ুন

স্বর্বস্বত্ব সংরক্ষিত-২০২৩-২০২৬,স্মার্ট টিভি,র ওয়েবসাইটের লেখা,ছবি,ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা দন্ডনীয় অপরাধ।

Developer By Zorex Zira